শচীন দেব বর্মণ
প্রদীপ রায়

ধুতি-পাঞ্জাবি পরা শীর্ণকায় কিন্তু দীর্ঘকায় বাঙালী, সিনেমা এবং সঙ্গীত জগতের বম্বে'তে দীর্ঘকাল রাজত্ব করেছেন নিজের দাপটে, নিজস্বতা বজায় রেখে। তাঁর রক্তে বইছে সাড়ে ৫০০ বছরের পুরনো রাজবংশ - মাণিক্য বংশ, যা শুরু হয়েছিল মহারাজা “মহা মাণিক্য”, আনুমানিক ১৩৮০ সাল থেকে। ঠাকুরদা ঈশানচন্দ্র মারা যাবার পর কাকা বীরচন্দ্রমাণিক্য অন্যায় ভাবে বাবা নবদ্বীপচন্দ্র মানিক্যকে সরিয়ে নিজে সিংহাসন দখল করেন। “মাণিক্য” ছিল তাদের উপাধি এবং সেটা কেবল রাজারা ব্যাবহার করতে পারতেন। রাজ্য ছাড়া হবার পর, নবদ্বীপচন্দ্র “মাণিক্য” উপাধি ছেড়ে তাদের মুল পদবী “দেব বর্মণ” এ ফিরে যান।

(ওদিকে কিন্তু বীরচন্দ্র এবং তার পুত্র–পৌত্ররা ছিলেন রবীন্দ্র ভক্ত এবং 'বিশ্বভারতী' স্থাপনে অর্থসাহায্য করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তার লেখাতে একাধিকবার (যেমন রাজর্ষি, বিসর্জন, মুক্তি) ত্রিপুরা রাজ্য এবং রাজ পরিবার কে উল্লেখ করেছেন।)

নবদ্বীপচন্দ্র নিজে একজন ধ্রুপদ গায়ক ছিলেন এবং খুব ভাল সেতার বাজাতে পারতেন। কিন্তু বরাবর স্বাধীনচেতা মানুষ শচীন কলকাতায় এসে এম.এ. পড়তে পড়তে ছেড়ে দিয়ে পুরপুরি গান বাজনার জগতে চলে আসেন। 
 
জাস্ট জানিয়ে রাখি, শচীন তেন্দুলকারের নাম রাখা হয়েছিল শচীন কর্তার নামে কারণ তেন্দুলকারের বাবা রমেশ ছিলেন শচীনকর্তা'র একনিষ্ঠ ভক্ত।

ভাটিয়ালী হিন্দি ও শচীনকর্তা – লোকে বলে পুরনো বাংলা গানের সুরে হিন্দি গানের সুর করেছেন – তা কিন্তু নয় – যেমন ধরুন এই বাঙলা গান, মীরা দেবীর লেখা, নিজের সুর দেয়া এবং নিজেরই গাওয়া গান, ১৯৬৯ সালের পুজায় প্রকাশিত -  
বর্নে গন্ধে ছন্দে গীতিতে হৃদয়ে দিয়েছো দোলা
রঙেতে রাঙিয়া রাঙাইলে মোরে একি তব হরি খেলা
তুমি যে ফাগুন রঙেরও আগুন তুমি যে রসেরও ধারা
তোমার মাধুরী তোমার মদিরা করে মোরে দিশাহারা
মুক্তা যেমন শুক্তিরও বুকে তেমনি আমাতে তুমি
আমার পরাণে প্রেমের বিন্দু তুমি শুধু তুমি

এর হিন্দি ভার্সনে কিন্তু চাল্‌টা পালটে গেল, এই গানের লেখক নীরজ, গায়ক – কিশোর কুমার, দেবানন্দের লিপে, 'প্রেম পুজারী' ছবিতে ১৯৭০ সালের —
“ফুলো কি রঙ সে, দিল কি কলম সে তুঝ
কো লিখি রোজ পাতি”।
 
জেদী শচীন কর্তা –  সালটা ১৯৫১। অনেক খেটেখুটে যত্ন করে হিন্দি ছবি “বাজি”র জন্য একটা গান বানালেন, কিন্তু পরিচালক গুরু দত্তে'র পছন্দ হল না। তখন শচীন কর্তার সেই বিখ্যাত উক্তি “(হালায়), গানের তুই কি বোজস্‌ ?”  তিনি তৎক্ষণাৎ একটা প্রাচীন লোকগীতির সুরে —  
“আম খাইলাম, জাম খাইলাম, তেতুল খাইলাম না
তেতুল খাইলে জ্বর অইব, ভাত পাইব না / অরে ভাই, ভাত পাইব না” 
— সুর দিলেন সুধীর লুধিয়ানভী'র এই গানে – গীতা রায়ে’র লিপে (তখন অবশ্য গীতা বালী), আর এক গীতা, গীতা দত্তের (তখন গীতা ঘোষ রায় চৌধুরি) গলায় অমর হল সেই গান। এটি শুনুন—  
        “তক্‌দির সে বিগড়ি হুই, তক্‌দির বানা লে
আপনে সে ভরোসা হ্যায় তো ইয়ে দাও লাগা লে  
লাগা লে, দাও লাগা লে”     

    এখন, আপনাদের জানতে ইচ্ছা করছে তো সেই বাতিল হওয়া সেই গানের কি হল ? শৈলেন্দ্রর লেখা গান, বৈজন্তীমালার লিপে, সেই গান আবার হিট হল ১৯৬৭ সালে লতা মঙ্গেশকরে’র কণ্ঠে “জুয়েল থিফ” ছবিতে, যার পরিচালক ছিলেন বিজয় আনন্দ। দীর্ঘ ১৫ বছর পরেও হিট হয়েছে সেই গান —  
“রুলাকে গয়া স্বপ্না মেরা / বৈঠী হূ কব হো সবেরা
ওহি হ্যাঁয় গম-এ-দিল / ওহি হ্যাঁয় চান্দ তারে /”
    লতার সাথে জুটি – শ্রদ্ধেয়া লতা মঙ্গেশকরের সাথে শচীনকর্তার জুটি এক কথায় অসাধারন। শচীনকর্তা একবার বলেছিলেন “আমারে একটা হারমনিয়াম আর লতা'রে (উনি অবশ্য লোতা কইতেন) দেও, আর দেখ আমি কি করি।” এতটাই ছিল তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শ্রদ্ধা। ১৯৪৬ সালে শচীনকর্তা বম্বে তে এককভাবে সুর করেন আর ১৯৪৭ নাগাদ লতা মঙ্গেশকর ছবিতে প্লেব্যাক শুরু করেন। তাদের প্রথম হিট গান ১৯৫১ সালে “নউজয়ান” ছবিতে লতাজীর গান। লিখেছেন সুধীর লুধিয়ান্‌ভি, ছবিতে লিপ্‌ দিয়েছেন নলিনী জয়ন্ত —  “ঠাণ্ডি হাওয়াএ লেহরা কে আয়ে  / রুত হ্যায় জোয়া(ন) তুমকো কৈসে বুলায়ে” — এই গান এত লোকপ্রিয় হয়েছিল যে এরপর বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৫০ বছরের ও বেশি সময় ধরে একই সুরে ১০টারও বেশী গান হয়েছে, এবং প্রায় সবকটি হিট। লম্বা লিস্ট – তার থেকে কয়েকটা বলছি -

এক - ১৯৫২, তামিল ছবিতে “কুঞ্জুম পুরাবএ” বস্থা কুমারীর গলায়।
দুই -  ১৯৫৪,“চাঁদনী চক” ছবিতে রৌশন জীর সুরে লতা তাই এর গলায় “তেরা দিল কাহা হ্যায়”
তিন - ১৯৫৫ নাগাদ, (কারন ছবিটি রিলিজ করেনি) রাজা আদমির সুরে মালায়লাম গান। 
চার - ১৯৬৪ “আপ কি পরছাঁই” ছবিতে মদন মোহনের সুরে মহম্মদ রফির গলায় —
“এহি হ্যাঁয় তামান্না তেরে দর কে সামনে,/ মেরি জান জায়ে, মেরি যান জায়ে”।
পাঁচ - ১৯৬৬, “মমতা” ছবিতে রৌশনজী'র সুরে লতা তাইএর গলায় “রহে না রহে হাম”
ছয় – ১৯৭৬, “বান্ডেল বাজ” ছবিতে রাহুলের সুরে লতা তাই এর গলায় – 
“নাজমা হামারা গায়ে গা এ জামানা”
সাত - ১৯৮১, “নরম গরম” ছবিতে রাহুলে'র সুরে আশা তাই এর গলায় 
“হামে আউর উঙ্কি  জারুরত নেই”
আট - ১৯৮৩, “অগর তুম না হতি” ছবিতে রাহুলের সুরে কিশোর এবং লতা তাই এর ডুয়েট— 
“হামে আউর জিনে কি চাহত না হতে/আগর তুম না হতে, আগর তুম না হতে”।
নয় – ১৯৮৫,  “সাগর” ছবিতে রাহুলের সুরে কিশোরের গলায় —  
“সাগর কিনারে ইয়ে দিল পুকারে / তু যো নেহী তো মেরা, মেরা কই নেহি হ্যাঁয়”।
দশ - ১৯৯৩,“প্যার কা তারানা” ছবিতে রাম-লছমনের সুরে লতা তাই এর গলায়— 
“কহা জা তুমনে জো কিউ নেহি মানা”
এগারো – নারগিস ছবিতে (এটাও রিলিজ করেনি) লতা তাই এবং জগজিত সিং / জেসুদাসে'র গলায়—   
“দোনো কে দিল হ্যাঁয় মজবুর প্যার সে”
বারো – সুদুর আফ্রিকার আলজিরিয়া শহরে একটি গানে “চার্লস বয়েলস” এই সুর ব্যাবহার করেছেন।

রাগী শচীনকর্তা  -   ১৯৫৭ সালে লতাজীর একটা মন্তব্যে শচীনকর্তা ক্ষুব্ধ হন। তাদের জুটি ভেঙ্গে যায়। অন্য কেউ হলে ওখানেই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেত কিন্ত শচীন কর্তা অন্য ধাতুতে তৈরি। বললেন “আমি আশা রে লইয়া গান করুম”। তারপর আশা ভোঁসলে কে নিয়ে যা যা হিট গান বানালেন – 
শুনবেন ? ১৯৫৭ সালেই, মজ্‌রু সুলতানপুরীর লেখা গান, পেইং গেস্ট ছবিতে, লিপ দিয়েছেন দেবানন্দ ও নুতন, গেয়েছেন আশা তাই ও কিশোর কুমার – 
“আহ, ছোড় দো আঁচল , জমানা কেয়া কহেগা
ইন আদাও কা জামানা ভি হ্যাঁয় দিওয়ানা / দিওয়ানা কেয়া কাহেগা

লক্ষ্য করলেন তো, এই গানের শুরুতে একটা “আহ” আছে যেটা আশাজির গলায় কিছুতেই আসছিল না , খালি বলছিলেন “আহো, আহো”, শচীন কর্তা তখন আশার মাথায় একটা চাটি মারেন, আশাজির মুখ থেকে বেরয় “আহ,”- শচীন কর্তা বলেন – “অয়, ঠিক অইরম করতে অইব”। 

ওঁর নিজের গলায় গৌ্রীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা গান, ১৯৫৯ সালের, তাতে এই  “আহ” টা ব্যাবহার করা হয়েছে। আর প্রায় এই সুরে একটি হিন্দি গান ও আছে —  

অনুরাগ ছবিতে , ১৯৭২ সালে মৌসুমি'র লিপে, আনন্দ বক্সির লেখা গান, লতা তাই এর গলায়
“আহ, বাঁশি শুনে আর কাজ নাই / ও যে ডাকাতিয়া বাঁশি
ও যে দিন দুপুরে চুরি করে, রাত্তিরে তো কথা নাই”       
এবং হিন্দীতে —  “নিন্দ চুরায়ে, চয়ন চুরায় ডাকা দালে তেরি বংশী
আরে দিন দাহারে চোরি করে রাত ভর জাগায়ে”।   
 
এরপর ১৯৫৮ সালে আশা তাই এর সেই বিখ্যাত গান, মজ্‌রু সুলতানপুরির লেখা, কিশোর এবং মধুবালার লিপে, গেয়েছেন কিশোর এবং আশা তাই, 'চলতি কা নাম গাড়ী ছবির' —   
“হাল কৈসে হ্যাঁয় জনাব কা /  কেয়া খেয়াল হ্যাঁয় আপকা
তুম তো মচল গয়ে ও হো হো / ইয়ুহি ফিসল গয়ে হা হা হা”।

ফোক সং মানে বাংলার লোকগীতি এবং শচীনকর্তা— 
    বাংলার লোকগীতিতে শচীনকর্তা একেবারে ডুবে ছিলেন। মোহিনী চৌধুরীর সেই বিখ্যাত গান, “মুক্তির মন্দির সোপান তলে” – সেই লেখকের লেখা –             “হাতের তালুর উপর যেমন হাজার আঁকিবুঁকি
আমার জেলার চতুর্দিকে তেমনি নদীর উঁকি
ঘরে নদী, বাইরে নদী, নদী উঠোন জুড়ে  
একটি নদী আমার গায়ে জল দিয়েছে ছুঁড়ে
ছুঁড়ুক নদী, উড়ুক নদী, ঘুরুক পায়ে পায়ে”।
এবং সেই বিখ্যাত গান তাঁর গলায় প্রকাশিত হল—
“তাকডুম তাকডুম বাজাই / আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই / বাংলাদেশের ঢোল
সব ভুলে যাই / তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল
বাংলা জনম দিলা আমারে / তোমার পরান আমার পরান / এক নাড়িতে বাঁধা রে”।   

এক্সপেরিমেন্টাল শচীনকর্তা – উনি এক্সপেরিমেন্ট করতেন - তখন তার সহকারী ছিলেন মান্না দে, উনি অবশ্য “মানা” বলে ডাকতেন। একদিন স্টুডিয়ো থেকে এসে বললেন – “মানা রে, আইজ লোতা'রে দিয়া যে গানটা করাইসি, এক্কেবারে অন্তরা থিকা শুরু করসি”। ১৯৬৫ সালে গাইড ছবিতে, শৈলেন্দ্রর লেখা গান, লতা তাই এর গলায়, ওয়াহিদা রহমানের লিপে —
“কাটো সে খিঁচে হ্যাঁয় আঁচল, তোড় কে বন্ধন বান্ধি পায়েল
কোই না রোকো দিল কি উড়ান কি, দিল ও চলা
আজ ফির জিনে কি তামান্না হ্যাঁয় / আজ ফির মরনে কা ইরাদা হ্যাঁয়”।

সাড়ে তিন মিনিটের খোলস ছাড়া -  আর এক এক্সপেরিমেন্ট – সেই ১৯৬৫ সালেই সাড়ে তিন মিনিটের খোলস ছেড়ে “তিন দেবিয়া” ছবিতে পুরো সাড়ে ছয় মিনিটের গান, প্রযোজক এবং পরিচালকের মানে ডিরেক্টর আর প্রডিউসার অমরজিতে'র প্রবল বারণ (সাড়ে তিন মিনিটের বেশি লম্বা গান হলে দর্শক শুনবে না – অধৈর্য হয়ে পড়বে) সত্ত্বেও নিজের জিদ বজায় রেখে গান করালেন কিশোর কুমার কে দিয়ে। সেই গান, মজ্‌রু সুলতানপুরি'র লেখা, দেবানন্দে'র লিপে, কিশোর কুমারে'র গলায় সুপার হিট হল, দর্শক কেবল গান শোনার জন্য এই ছবি দেখতে আসত। শচীনকর্তা কইলেন – “শুনেন, গান হিট না অইলে সুর করা ছাইর‍্যা দিমু অহনে” —  
“খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হাকিকত, কউন হো তুম বাতাও
ডর সে কিতনি দূর খাড়ি হো, অউর করিব আ যাও”। 
এর আবার রেকর্ড বেরল একই রেকর্ডের দু-পাশে নয় – দুইটি আলাদা আলাদা রেকর্ডে –পার্ট – ১ N ৫৪৮৫২ (দু পিঠে'ই) ; পার্ট -২ N ৫৪৮৫৪ (দু পিঠে'ই), হ্যাঁ, এটিও একটি রেকর্ড।

ভাবুক শচীনকর্তা –   সেই বিখ্যাত গান পিয়াসা ছবির ১৯৫৭ সালের “জানে ও কৈসে লোগ থে”— হেমন্ত মুখার্জি’র গলায় - এর দ্বিতীয় লাইনের মুল ভাব “হাম নে জব খুশিয়া মাঙ্গি”  খুব সুন্দরভাবে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের দ্বিতীয় লাইন “পাঞ্জাব সিন্ধু গুজরাত মারাঠা”র সাথে মিলে গেছে। ছবির নাম পিয়াসা, গানের রচয়িতা সুধীর লুধিয়ান্‌ভি, গুরু দত্তর লিপে —
“জানে ও কৈসে /লোগ থে জিনকে /প্যার কো প্যার মিলা
হাম নে তো জব /কলিয়া মাঙ্গি /কাটো কা হার মিলা”।

রসিক শচীনকর্তা –   একটু হাসির কথায় আসা যাক। শচীনদা কোন মন্দিরে, বিশেষ করে খা'র রামকৃষ্ণ মিশনে গেলে জুতো জোড়া একসাথে রাখতেন না। ডান পায়েরটা সিঁড়ির একপাশে আর বাঁ পায়েরটা একদম সিঁড়ির অন্য পাশে, যাতে চুরি না যায়।

আর একদিন শচীন কর্তার বাড়ীতে রিহার্সাল, কিন্তু উনি বাড়ীতে নেই। কিশোর কুমার এসেছেন এবং হারমোনিয়াম বাজিয়ে মনের আনন্দে শচীনদা কে অনুকরন করে গলা ছেড়ে গাইছেন – সানুনাসিক গলায়, হঠাৎ দরজায় শচীন কর্তা। কিশোর কুমার ঐ দেখে জানলা টপকে দে দৌড়। শচীন দা কমেন্ট করলেন “বান্দর” !! 

যাইহোক, এই বাংলা গানটির রচয়িতা জসিমুদ্দিন, এবং তারও আগে শেখ ভানুর লেখা এই গান, হিন্দি ভারসন গানটি ১৯৭৩ সালের “ছুপা রুস্তম” থেকে নেয়া, এবং “চলতি কা নাম গাড়ী”তেও এই গানের অংশ ব্যাবহার হয়েছে। শচীনকর্তা নিজেও একবার এই হিন্দি গান রেকর্ড করেছিলেন, নিজের গলায়। হিন্দি গানের লেখক নীরজ, গায়ক কিশোর কুমার, লিপ দিয়েছেন – দেবানন্দ। আর বাংলা তে —
“নিশীথে যাইও ফুলবনে রে ভোমরা
জ্বালায়ে চান্দের বাতি, আমি জেগে রব সারা রাতি গো
আমি কব কথা শিশিরের সনে, রে ভোমরা”    
আর হিন্দি ভার্সনে—
“ধীরে সে জানা খাটিয়ান মে, রে খট্‌মল / সয়ি হ্যাঁয় রাজকুমারী, দেখ রহি মিঠে সপ্নে
যা যা ছুপ যা তাকিয়ান মে / ধীরে সে জানা বাগিয়ান মে”
শুধু আধুনিক গানে নয়, রাগাশ্রয়ী গানেও শচীনদা'র দখল অসাধারন যেমন এই গানটা – “পুছো না কৈসে” – মান্না দে গেয়েছেন “মেরে সুরত তেরে আঁখও” ছবিতে, ১৯৬৩ সালের, গানটি লিখেছেন “শৈলেন্দ্র"। এই গানটা যে রাগের ওপর করা সেই রাগের ওপর বিখ্যাত নজরুলগীতি “অরুন কান্তি কে গো যোগী”— 
“পুছো না কৈসে মৈনে রয়ান বিতায়ি, / এক পল জাইসে, এক জুগ বিতা”

মান্না দে ছিলেন শচীনকর্তার সহকারী, কাজেই তার গান তো জনপ্রিয় হবেই, যেমন - “বাজু – বাবু সমঝো ইশারে” – “চলতি কা নাম গাড়ী” ছবির, ১৯৫৮ সালের, লেখক মজ্‌রু সুলতানপুরি। ছবির তিন ভাই –অশোক কুমার, কিশোর কুমার এবং অনুপ কুমারের গলা দিয়েছিলেন শচীনকর্তা নিজে, কিশোর নিজে এবং মান্না দে --    
“বাজু –   বাবু সমঝো ইশারে, হরন পুকারে, পম পম পম”
 
একদম সহজ সরল সুর ও শচীনকর্তা - শচীনকর্তা যে সবসময় গুরুগম্ভীর সুর করেছেন  – এমন নয় – একদম সহজ সরল সুর। এর পিছনেও একটা গল্প আছে। ১৯৪৪ সালে যখন উনি বম্বে চলে যান, উনি থাকতেন ফিল্মিস্তান স্টুডিয়োতে। অলরেডি “আট দিন”(১৯৪৪) এবং “দো ভাই” (১৯৪৭)-তে সঙ্গীত পরিচালকের কাজ করেছেন। রতন বলে একটি ছেলে তাদের চা দিত, সেই একদিন গুনগুন করে কি একটা গান করছিল - নৌসাদের সুর দেয়া। জিজ্ঞাসা করাতে রতন বলল যে ঐ সুরটা কি ভাবে জানি মাথায় বসে গেছিল । শচীন কর্তা সেদিন উপলব্ধি করলেন যে গান জনপ্রিয় করতে গেলে তাকে সহজ সরল সুর দিতে হবে।  তেমনি একটি গান ১৯৫৭ সালের “পিয়াসা” ছবিতে, লেখক – সুধির লুধিয়ান্‌ভি, গায়ক - মহম্মদ রফি, লিপ দিয়েছেন জনি ওয়াকার — 
“সর জো তেরা চকরায়ে, আউর দিল ডুবা যায়ে
আজা প্যারে পাশ হামারে, কাহে ঘবরায়ে—”
 
কিশোর কুমারের দ্বিতীয় বার কাম ব্যাক ও শচীনকর্তার আর এক এক্সপেরিমেন্ট – কিশোর কুমার'কে ১৯৬৯ থেকে বিখ্যাত করার। “রুপ তেরা মস্তানা”—র ইতিহাস আজ ইউ টিউব আর কিশোর পুত্র অমিত কুমারের জন্য সবারই জানা। শচীনকর্তার আর এক অবদান – “প্রথমে গান তারপরে সুর” থেকে “প্রথমে সুর আর সেই অনুযায়ী গান”। ওনার কথায় – “আমি সুর দিতাসি, আপনে সুর ফলু কইর‍্যা গান লিখেন - সিচুএসান অনুজায়ী - কি সমস্যা ?  সেই রকম একটি - কিশোর কুমারের আর একটি বিখ্যাত গান যা কালজয়ী, ১৯৫৫ সালের– “মুনিম জি” ছবির , গায়ক কিশোর কুমার, লিপ দিয়েছেন দেবানন্দ, লেখক সুধীর লুধিয়ান্‌ভি।      “জীবন কে সফর মে রাহী মিলতে বিছড় জানে কো”

ব্রজেন বিশ্বাস ও শচীনকর্তা –  শচীনদা’র অধিকাংশ বাংলা গানে তবলা সংগত করেছেন “ব্রজেন বিশ্বাস”। তিনি অল্প বয়স থেকেই ভাল করে চোখে দেখতে পেতেন না, কিন্তু তবলা'য় একবার বসে গেলে অসাধারন। শচীনদা’র গানে একটা বিশেষ ঠেকার নামই হয়ে গেছে ব্রজেন ঠেকা। তার আগে বলে নি, সেনেগাল, আফ্রিকার এক ছোট্ট দেশ , তার একটা ফোক গান —  
 “ফাটুই ও / সি যা যা লানো / ফাটু ফাই ফাই ফাটূ / ফাটু / ক্লেমেন্দিরিও /বু টুম বেলে বুটুম বেলে”  
সেই সুরের রেশে ১৯৫৬ সালে পুজা সংখ্যার গান, লেখা রবি গুহ মজুমদার। 
“তুমি আর নেই সে  তুমি”
এ গানে “জানি না জানি না কেন এমন হয়”–তে যে ঠেকা ব্যবহার হয়েছে সেটা ব্রজেন ঠেকা। ঠেকা টা ডবল”।

ব্রজেন বাবু রাহুল দেব বর্মনের তবলা শিক্ষক ছিলেন। উনি বাঁশ দিয়ে জল তরঙ্গের মত একটি যন্ত্র তৈরি করেন যার নাম “ব্রজ তরঙ্গ”। উনি ভাল গান গাইতে পারতেন – একবার এক রিহার্সালে উনি গুনগুন করে গান করেছেন “মজেছি আমি তোর প্রেমে রে” – এবং এই সুর ব্যবহার হল – অভিমান ছবিতে ১৯৭৩ সালে, মজ্‌রু সুলতান্‌পুরি'র লেখা, কিশোর কুমারে'র কণ্ঠে , অমিতাভে'র লিপে—
  “মিত না মিলা রে মন কা / কোই তো মিলন কা কর রে উপায়”
 
শচীনকর্তার আর এক সৃষ্টি এক হিরো'র তিনজন প্লেব্যাক সিঙ্গার। শুরু হয়েছিল ১৯৬০ সালে “মঞ্জিল” ছবিতে, যেখানে দেবানন্দে'র লিপে গেয়েছেন – (শচীনকর্তার “তাতে কি হইসে, দর্শক ত প্লে ব্যাক সিঙ্গাররে দ্যাখব না, খালি হিরো'রে দ্যাখব আর গান শুনব, তাতে কি সমস্যা ?)— মান্না দে (হাম দম সে গয়ে), 
হেমন্ত (ইয়াদ আ গইয়ি ও নেশিলি নিগাহে) এবং 
মহম্মদ রফি (দিল তো হ্যাঁয় দিওয়ানা)।

“তালাশ” ছবিতে মান্না দে গেয়েছিলেন, শচীন দার নির্দেশনায় (১৯৬৯)। “তালাশ” ছবিতে –“তেরে নয়না তালাশ করকে” এই গান প্রডিউসার – ওপি রাহলান বলেছিলেন মুকেশ এই গান করুক, শচীন কর্তা বললেন – “না, মানা এই গান টা করব, আপনের থিকা গান টা আমি ভাল বুজি”। একদম ডেডলক সিচুএসন। শেষে পরিচালক – বিজয় আনন্দ রায় দিলেন – মান্না দে এবং প্রডিউসার পিছে হটলেন – ভাবা যায় ? লেখা মজ্‌রু সুলতান্‌পুরির, লিপ দিয়েছেন রাজেন্দ্র কুমার—
“তেরে নয়না তালাশ কর জিসে / ওহি হ্যাঁয় তুঝে মে কহি, দিওয়ানে”

কাকে কাকে দিয়ে উনি গান হিট করান নি ? শুধু আশা নয়, অন্যদেরও। যেমন “বাত এক রাত কি” (১৯৬২ সালে) ছবিতে সেই বিখ্যাত গান “না তুম হামে জানো, না হাম তুমে জানে”। ছবিতে পুরুষ এবং মহিলা দুই কণ্ঠেই আছে। পুরুষ কণ্ঠে হেমন্ত মুখার্জি, যেটি বেশি জনপ্রিয় কিন্তু মহিলা কণ্ঠে সুমন কল্যানপুর – সমান পপুলার –  গানটির রচয়িতা মজ্‌রু সুলতান্‌পুরি—  
 “না তুম হামে জানো, না হাম তুমে জানে
মগর লাগতা হ্যাঁয় কুছ অইসা মেরে হমদম মিল গয়া”

    রবীন্দ্রসুরে অনুপ্রানিত - অন্যান্য সুরকারদে'র মত শচীনদা'র সুরও রবীন্দ্রসুরের অনুপ্রানিত হয়েছে যেমন - অভিমান ছবিতে, ১৯৭৩ সালে। গেয়েছেন – কিশোর কুমার এবং লতা তাই, গীতিকার – মজ্‌রু সুলতান্‌পুরি -
“যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে”
এবং শচীনকর্তা—
“তেরে মেরে মিলন কি এ রেহনা, নয়া কোই গুল খিলায়েগি 
তাভি তো চঞ্চল হাই তেরা নয়না, দেখ না, দেখ না”।  

 গায়ক শচীনকর্তা –  তাই বলে উনি কি নিজে কোন ছবিতে গান করেন নি ? করেছেন, অবশ্যই করেছেন, কিন্তু কোন নায়কের লিপে নয়, অনেকটা আমাদের বিবেকের মত – যেমন এই গান টা  “ছোটে ছোটে স্বপ্না হামার” - হিন্দি সাগিনা ছবির ১৯৭৪ সালে শেষ দৃশ্য। এটি ছিল শচীন কর্তার নিজের গলায় হিন্দি ছায়াছবিতে শেষ গান—
“ছোটে ছোটে স্বপ্নে হামার /ছোটি আশা, ছোটা প্যার,
ছোটাসা পর্বতপে গাঁয়ও,/ ছোটি সি ঝোপড়ী হামার…”

“রঙ্গিলা” এই কথাটা বারবার এসেছে তার গানে কি সে বাঙ্গলা এই হোক, শুনি শচীন কর্তার নিজের গলায়  গাওয়া গান ১৯৪৫ সালে, জসিমুদ্দিনে'র লেখা, দুখি খোন্দকারের সুরে, এই গানের টিউন ১৯৪২, এ লাভ স্টোরি'তেও ব্যবহার করা হয়েছে—
“রঙ্গিলা রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে, আমারে ছাড়িয়ারে বন্ধু কই গেলা রে…”

কিম্বা হিন্দি “রঙ্গিলা রে” - প্রেম পুজারি ছবির গান লতা তাই এর গলায়, ১৯৭০ সালের, নীরজের লেখা—      “রঙ্গিলা রে, তেরে রং মে ইয়ু রাঙ্গা হ্যাঁয় মেরা মন”

কিছু গান আমাদের গভীর ভাবে ভাবায় – সেটিও কিন্তু সুরের মায়াজালে,  হয়ত অন্য রকম সুর হলে আমাদের মনে সেরকম দাগ কাটত না – সেই রকম একটি গান ১৯৬৯ সালে “আরাধনা” ছবিতে, লিখেছেন আনন্দ বক্সি, সুর দিয়েছেন এবং  এই গান নিজে গেয়েছন শচীন দেব বর্মণ — “বনেগি আশা এক দিন তেরি ইয়ে নিরাশা”।

      শচীনকর্তার স্পেশাল - মীরা দেবীর লেখা, নিজের সুর দেয়া, ১৯৭০ সালের পুজা সংখ্যার গান - এবং একই সুরে হিন্দি'তে “তালাশ” ছবিতে, ১৯৬৯ সালে, গীতিকার – মজ্‌রু সুলতান্‌পুরি, গান করেছেন লতা এবং ছবিতে লিপ দিয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর —
“শোন গো দখিন হাওয়া, প্রেম করেছি আমি 
লেগেছে চোখেতে নেশা, দিক ভুলেছি আমি...”
আর হিন্দীতে
“খাই হ্যাঁয় রে হামনে কসম, সঙ্গ রহনে কি”
এই গান গাওয়ার পরে লতা তাই বলেছিলেন যে উনি “শচীনকর্তার (উনি বর্মণ দাদা বলতেন) গানের আশেপাশে ও আসতে পারেন নি”। 

পূর্ব পাকিস্তানে নদীর ঘাটে এক অল্প বয়সী গৃহ বধু কে কাঁদতে দেখে শচীন কর্তার মনে লাগে, তিনি তৎক্ষণাৎ মীরা দেবীকে (স্ত্রী) দিয়ে এই গান টা লিখিয়ে নিজেই সুর দেন –  
“কে যাস রে ভাটি গাং বাইয়া / আমার ভাই ধন রে কইও নাইয়োর নিত বইলা তোরা”
এর অনেক দিন পরে একবার ঐ পূর্ব পাকিস্তানে, উনি নৌকা করে নদী পার হচ্ছেন, শূনলেন যে মাঝি ঐ গানটি গাইছেন। মাঝি রে জিগাইলেন – “তুমি যার গান করতাস, তারে চিনো ?” মাঝি উত্তর দেয় “না কত্তা, তারে চিনিনা, দ্যাখিও নাই কুনদিন। ওনার গলায় যেন পাখি ঢুইক্যা বইয়া রইসে”। শচীনকর্তা বুঝলেন তাঁর গান সার্থক।  

১৯৩০ সালে উনি দার্জিলিং গেছেন। কলকাতা থেকে অনুরাগীদের ফোন আসত টেলিফোনে গান শোনাবার জন্য। এর প্রায় ৩০ বছর পরে একবার একটা মজার ব্যাপার হল। একটি গানে— ফিল্মে নায়ক সুনীল দত্ত টেলিফোনে নায়িকা(নুতন)-কে গান শোনাচ্ছেন। শচীনকর্তা ঐ গান প্রথমে রফি সাহাব'কে দিয়ে, পরে মান্না দে'কে দিয়ে টেলিফোনে গান করিয়ে অন্য প্রান্ত থেকে শুনে রিজেক্ট করে দিলেন দুজনকেই। অতঃপর তালাত্‌ মাহমুদ্‌ কে ঐ রকম ভাবে টেস্ট নিয়ে তাকে দিয়েই গাওয়ালেন। ছবির নাম – সুজাতা (১৯৫৯ সালের), সুনীল দত্তর লিপে, গীতিকার – মজ্‌রু সুলতান্‌পুরী— 
“জ্বলতে হ্যায় জিস্কে লিয়ে, তেরি  আঁখও কে দিয়ে…”

আর একটি গান ১৯৫৮ সালে “সোল্‌ভা সাল” ছবির গান, মজ্‌রু সুলতান্‌পুরির লেখা এবং এক বিখ্যাত গায়কের গলায় – হেমন্ত মুখারজি – 
“হ্যাঁয় আপনা দিল ও আওয়ারা, / না জানে কিস পে আয়েগা”

শেষ সুর –  ১৯৭৫ সালে মিলি ছবির গান, যোগেশে'র লেখা, “বড়ি সুনি সুনি হ্যায়” – রিহার্সাল হচ্ছে নিজের বাড়ীতে – কিশোর কুমার গায়ক, শচীনকর্তা অসুস্থ হয়ে পরলেন, ডাক্তার বললেন হাসপাতালে নিতে, উনি কিছুতেই যাবেন না, কালকেই যে ঐ গানের রেকর্ডিং হবে। বেগতিক দেখে কিশোর গলা খারাপের অভিনয় করে বললেন – তিন চার দিন লাগবে গলা ঠিক হতে, বাই দ্যাট টাইম, শচীন দা'ও হসপিটাল থেকে ঘুরে আসুন। শচীনকর্তা হসপিটালে ভর্তি হলেন এবং পরে, ধীরে ধীরে কোমা'তে চলে যান। এই সময় দুটি ঘটনা ঘটেছিলো - (এক) - মান্না দে ছিলেন মোহনবাগান সর্মথক, ওদিকে শচীন'দা ইস্টবেঙ্গলের। ফলে বম্বেতে ইস্টবেঙ্গলে'র খেলা থাকলে সেদিন আর কোন রেকর্ডিং বা রিহার্সাল নয়, একদম মাঠে। সাথে মান্না দে-ও। কিন্তু হয়ত ইস্টবেঙ্গল হারছে, কিন্তু মান্না দে আনন্দ করতে পারতেন না। বম্বেতে রোভার্স কাপ খেলতে এলে – একদিন ওঁর বাড়ীতে পুরো টিমটার নিমন্ত্রণ থাকত। ৩০শে সেপ্টেম্বর ইস্টবেঙ্গল আই.এফ.এ. শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগান'কে ৫-০ গোলে হারাল। হাসপাতালে রাহুল বাবার কানে এই খবর দিলে উনি চোখ মেলে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। (দুই) – ঐ গানের রেকর্ডিং-এ শচীনকর্তা থাকতে পারেননি, কিন্তু কিশোর কুমার টেপরেকর্ডারে গান করে হসপিটালে পাঠিয়েছিলেন, এবং শোনার পরে উনি রাহুল কে বলেছিলেন – “পঞ্চম রে, আমি জাইন্‌তাম কিশোরে ঐ রকমই গাইব”। 
“বড়ি সুনি সুনি হ্যায় / জিন্দেগি য়ে জিন্দেগি/ম্যায় খুদ সে হু ইহা/আজনবী আজনবী
এই গানের দ্বিতীয় লাইনটা লক্ষ্য করুন, 
  “ম্যায় খুদ সে হু ইহা / আজনবী আজনবী” 
ওঁর নিজের জীবন দর্শনের সাথে মিল খুজে পাওয়া যাচ্ছে কি ?

এই হ’ল আমাদের শচীন দেব বর্মণ বা এস. ডি. বর্মণ।

সমাপ্ত